কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা : প্রধানমন্ত্রী

কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোটা পদ্ধতি বাতিল, পরিষ্কার কথা। বারবার ঝামেলা এড়ানোর চেয়ে এটা বাতিল হলেই ভালো। বুধবার জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার দাবিতে রোববার দুপুরে পূর্বঘোঘিত গণপদযাত্রা শেষে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ৮টার দিকে তাদের ওপর পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী আহত হন। এছাড়া শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

ওই দিন বিকালে সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে চাকরিতে বর্তমান কোটা পদ্ধতি ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষায়; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসা কমিটি।

কিন্তু ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সরকারের অস্পষ্ট আশ্বাসে’ আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

অর্থমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের পর কোটা সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আগের মতো আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে মঙ্গলবার ফের ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।

কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা আসতেই হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন। নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাত ৯টা পর্যন্ত মিছিল আর স্লোগানে তারা গোটা ক্যাম্পাস মুখরিত করে রাখেন।

বুধবারও চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকলে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

উপজাতি কোটা, নারী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটাসহ সমস্ত কোটায় সংস্কার আনা জরুরী হয়ে পড়েছে। উপজাতি (অবাঙালি বাংলাদেশী জাতিগোষ্ঠী) বলতে আমরা কাদেরকে বুঝি? ঘুরে ফিরে গুটিকয়েক নৃগোষ্ঠীই কোটা সুবিধা পাচ্ছে। সাঁওতাল বা চা বাগানের শ্রমিকরা কি পাচ্ছে? কয়েকটি গোষ্ঠীর রাজার মেয়ে/ছেলে কোটা পায়, কিন্তু একজন হতদরিদ্র হিন্দু বা মুসলমান বাঙালির ছেলে-মেয়ে পায়না কেন? বাঙালি হয়েছে বলে কি সে পাপ করেছে? এদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কৃষক বা শ্রমিকের জন্য কি কোনো কোটা আছে? শহরে বাস করা বড় লোক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি কোটা পাচ্ছে। কিন্তু দূর চরাঞ্চলে বাস করা গরীব মানুষগুলো কি কোন কোটা পাচ্ছে? এমন অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে কোটা প্রথার সংস্কারকে যৌক্তিক বলে প্রমাণ করা যায়।

তাই কোটা সিস্টেমে যে সংস্কার শুরু হয়েছে, সেটি অব্যাহত রাখতে হবে। একদিকে শূন্যপদে মেধাবীদের নিয়োগ দিতে হবে, অন্যদিকে কোটায় নিত্য নতুন সংস্কার আনতে হবে। যেমন মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বিশুদ্ধ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা তালিকা বিশুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত নাতি-নাতিনদের কোটা স্থগিত রাখা উচিত। উপজাতি কোটার সুবিধা সব গোষ্ঠী পাচ্ছে কি না সেটাও দেখতে হবে। পাহাড়ের স্থানীয় বাঙালি কিংবা চরাঞ্চলে বসবাস করা হতদরিদ্র বাঙালিকে কীভাবে কোটা সুবিধায় আনা যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে।